Sunday, 20 August 2017

দুই পৃথিবী

***দুই পৃথিবী ***

এক পৃথিবী জমজমাট পূজোর কাজে, শরীর সাজে।
অন্যটা যে খেতে পায়না,
দেখা যায় তার কালো বুকের ভাঁজে।
এক পৃথিবী ভীষণ সতেজ, রঙের ছটায় বড্ড রঙিন
অন্যটা তো শুকিয়ে গেছে,
সাদাকালোও জোটে না মোটে।
এক পৃথিবী বায়না নিয়ে সাধের মতোই হিসেব করে
আর একটা তে বায়না কোথায়?
সাধের অংক হারায় ভিড়ে।
দুই পৃথিবীর মানুষটা এক,
একটি নিচ্ছে, একটি দিচ্ছে।
এক টা পেয়েও চাইছে কেমন!! আর একটার সব শূন্য ইচ্ছে।
                            ©সুতপা

Thursday, 3 August 2017

ফিরে এসো মৃণাল

* ফিরে এসো মৃণাল *

হ্যালো: আজ মনে হয় একটু দেরি হলো
ভাঙ্গা আওয়াজে শুরু হল এবার
পূর্বের কথা আর আওরাই না ভুলেও
যার স্বাদ বড্ড তিক্ত আমার কাছে।
সময়ের রেশে পাড়ি দিলেও জীবন
ঘটে যাওয়া অনেক বলার আছে।
ঘটনা ছিল প্রায় না ঘটার ভানে
তালের সাথে পা মিলিয়ে চলা।
গোপন কথাসব সাজিয়ে মনে মনে
আবদারেতে সবটা তোমায় বলা।
তবে সব আবদার সাত বছর পর আবার
গুছিয়ে রেখে বলি হাহাকারে।
ফিরে এসো মৃণাল একটি বার
আমার দুচোখ থমকে আছে ভাঙা ঘরের দ্বারে।
আমিই কি একাই এক অভাগিনী স্ত্রী
অবহেলা যাকে দিয়েছিলে এক কালে।
অন্যায় সব আমার ভাগীদারি
যাকে রেখে গেছো একা নিজের হালে।
ফিরে এসো মৃণাল
আধ ভাঙা তৃষ্ণা নিয়ে বুকে।
দূরে গিয়ে ভালো আছো বুঝি?
ভেবেছো আমি আছি বড়ো সুখে।
রেডিও তখন প্রেমের গানে সুর বহরে ছটে
শূন্য ঘরও নিজের মতোন গুনগুনিয়ে উঠে।
সকাল এবার পা বাড়িয়ে বেলার দিকে যখন
কালোয় সাজা সন্ধ্যা একা নেমে গেছে কখন।
তুলসীমঞ্চে প্রদীপ দিয়ে যখন তোমায় ডাকি
নিজেই পরে তোমার স্বরে উওর দিয়ে থাকি।
অগোছালো তোমার ড্রয়িংরুমে ছড়িয়ে রাখা পেপার
গুছিয়ে রাখতাম আমিই তাই তোমায় বলা বেকার।
এখন রাতে আবার ছড়িয়ে ঘুমতে চলে যাই
ভোরের আগে উঠে সব আদরে গোছাই।
সাতটা বছর বড়ো তো নয় নাকি তা মিছে সান্ত্বনায়
পিঠ ঠেকেছে ঘরের কোণে কাতর ভরা যন্ত্রণায়।
চায়ের সাথে খবরকাগজ নিয়মিত রাখি ভরে
আওয়াজ করা সিলিংফ্যান চালিয়ে দিই হালকা করে।
স্নানের জল সরিয়ে রেখে মিছিমিছি বলি হেঁকে
'কোন সার্ট টা পরবে তুমি?'
'পানটা দেব সেজে তবে'
'যাচ্ছ বুঝি এই বেলা? আসবে আবার কখন কবে?'
সামলেছিলাম একাই সব
কষ্ট হলেও বলবো তোমায়
গর্ব করে বলবে তবে
দেবে? মহীয়সী নামটা আমায়
ফিরে এসো মৃণাল তুমি
নিয়ে তোমার পুরোনো স্মৃতি।
অবাস্তবে ফোনটা রাখতে হবে
বাস্তবে চোখের জলে তোমার স্ত্রী ইতি।
               ©সুতপা

Monday, 17 July 2017

পরিত্যক্ত এক ফানুস


ফানুস তুমি একুশে পরে, সর্বাঙ্গে উত্তপ্ত
সলতে আগুন পথের সাথী, বাকি টুকু পরিত্যক্ত।
মধ্যরাতে গগন পথে হাতছানিতেই ব্যস্ত তুমি
পতিত পান্থ তখন তোমার বাকি শরীর ছোঁবে ভূমি।
ভাবলে তোমার উদার দেহ রঙের বচন বাঁধবে পরে,
সাধের কথা মাথায় রেখে উড়বে তবে সময় করে?
ফানুস তুমি একুশে আইন মানবে নাকি অঙ্গীকারে!
পিছল জীবন বুঝলে পরে টের টি পাবে হাড়ে হাড়ে।
                             ©সুতপা

Saturday, 8 July 2017

খোয়া গিয়েছে স্বপ্ন

খোয়া গিয়েছে স্বপ্ন

বহু কাল আগে দেখা একটি স্বপ্ন
যার বাস্তবতার রেশ নেই বটে
অতি কষ্টে টুকিটাকি আটকে,
যার রেশ সীমা দাগেই ছোটে
স্বপ্ন মানে আমার স্বপ্নের কথা
যার ছিল দুটি হাত,
একটি আসমান মাটি ভাবা মন
কিন্তু এগিয়ে যেতে পা?
ছিল না। এ ছিল এক প্রতিবন্ধী স্বপ্ন
যে খুশি মতন নিজের সব টুকুর মানে
বানিয়ে নিতে পারত এক সুদূরপ্রসারী রাস্তা
কিন্তু তাতে তাল মিলিয়ে হাটতে পারত না,
প্রতিবন্ধকতার ছাঁয়া তার পথ আটকে রাখতো
সুদূরের আকাশ দেখে মেঘ আঁকলো, বৃষ্টিও নামালো
কিন্তু ভিজবে কেমন? সে যে প্রতিবন্ধী
হ্যাঁ আমার স্বপ্ন প্রতিবন্ধী।।
সে বোঝে তার অস্তিত্ব কিন্তু প্রকাশে পায় বাধা
কেন এমন স্বপ্ন আমার? যার নেই কোনও পথ
কেন এই স্বপ্ন বেঁচে যার নেই কোনও মতামত
স্বপ্ন নাকি স্বাধীন হয়! তবে কেন প্রতিবন্ধী তার নাম
তবে কেন স্বপ্নের জঠোরে নেই সুখ, নেই ভালোবাসা নেই তার দাম
ছিল তো শুধু স্বপ্ন আমার কাজের বড়ো কাজ,
ফাঁকা স্বপ্ন সাজানোর আগেই মরচে ধরেছে আজ।
স্বপ্ন টুকুও বদ্ধ কেমন সমাজ কাজের তাড়ায়,
যায় কী পাওয়া স্বাধীন স্বপ্ন কারুর কাছে ভাড়ায়।
দাও না জানা দুখান পা ধরে এনে তাকে,
প্রতিবন্ধী পীড়ন ভুলে খুশিই হবে ফাঁকে।
হাজার তারাও আলোক পেয়ে খুশি মনের মাঝে
টিপটিপিয়ে জ্বলছে কেমন ব্যস্ত সন্ধ্যা সাঁঝে।
তবে দাও না কিছু ব্যস্ততা ধার স্বপ্ন দেখার জন্য
হ্যাঁ! হতেই হবে স্বাধীন তাকে,
কারন এটা আমি আর আমার জীবন অন্য
যদি মানা করো দিতে, তবে চাই না পরে কিছু
জানবে স্বপ্ন খোয়া গেছে, আসবে না তার পিছু।
                       ©সুতপা

Friday, 16 June 2017

বৃষ্টির বিয়ে

** বিয়ে**

আমার বৃষ্টি
সে নাকি জেদ ধরেছে মনে,
আবার সাজতে হবে কনে।
শাড়ি? হ্যাঁ চাই তো তবে টকটকে লাল
যেটা সবাই বাসে ভালো সেই লাল
যা বধূ বধূ ছাপ দিয়ে যায় লাগে একেবারে অন্য
বললো উঁচিয়ে,
 কোনো সওগাত আসেনি আমার সাজের জন্য?
কি দরকার আমার সব আছে।
ওই দূর সুদূরপ্রসারী মেঘ সে আমায় সাজাবে
যা আগে কেউ কোনো দিন সাজেনি তেমন করে
রূপ কথার পরী জান? হ্যাঁ ঠিক তেমন সুন্দর
মেঘের নরম শরীর দেবে আমায় লজ্জাবস্ত্র
শরীর জুড়ে রূপ দেবতার অলংকার
ও সখী বল না লাগবে তো আমায় অসাধারণ
সখী মুচকি হেসে কয় তা বিয়ের পাএ কই
সে বলে দেখ না নিচে সুদূরে দেখা যায় ওই
তবে মাটি? কেমন হবে মিলন?
যখন আসবো আমি ধেয়ে
নামবো মাটি চেয়ে
যখন গন্ধ হবে খিদের মতো শরীর পরশ বেয়ে,
বুঝবি তখন পাগলী সখী আমাদের মিলন হয়েছে
আমার সব তিক্ততা,
তিলে তিলে বেড়ে ওঠা একরাশ ক্ষত
সেদিন সব যাবে মূছে
ধুয়ে যাবো আমি আমার গন্তব্যের পথে
তবে সাবধান পাঁচ কান করিসনে
ওই দেহ ফাটা বজ্র চায় না আমার ভালো
ক্ষতির ওপর ক্ষতি সাজায় দিয়ে নিজের আলো
আমার সুখে ভাগ বসাতে পালটে সবটা
সে এমনি অহংকারী দেখায় নিজের ভাবটা
নে আর দেড়েক সময় পরেই তো যেতে হবে আমায়
সাজা দেখি ভালো করে
কই গাছের ফুলের মালা?
বাধবে কখন খোঁপা?
রতন আর চাই নে, রূপেই আমি লক্ষ্মী আজ,
যাবো নিজের পায়ে করে লাগবে নাকো পক্ষীরাজ।
চল্ আর দেরী করিস নাকো
যেতে হবে তাড়াতাড়ি
বজ্র ওঠার আগে দিতে হবে ফাঁকি
ও সখী বল না লাগছে আমায় ভালো
আমার তো শুকায় হাত পা
ও সখী।
এমন করে পরী সেজে বৃষ্টি মাটির বুকে
আছড়ে পরলেন সাধ করে অন্য কিছুর সুখে
মেঘের সাথী টাপুরটুপুর শব্দে এলো নেমে
মিলন হল বিষাদ শেষে ভয়টা গেল থেমে
প্রেমের প্রসার বিবেক রেখে আবেগ কাছে টানে
সময় শুধু অনুমানের শব্দ টুকু মানে।
                     ©সুতপা

Monday, 29 May 2017

আনন্দ

প্রার্থনায় প্রভু বৃষ্টির ধারা বহিতেছে এই সবে
ক্ষিপ্ত শরীর ক্লান্ত মন শান্ত হলো তবে।
ভুবন বৃক্ষের পাতায় পাতায় স্বস্তির বাতাবরণ
দুখের গ্লানি জলের শরীর করেছে তবে হরণ।
                       ©সুতপা

সত্যি কথা

প্রতিশ্রুতির ভাগের চাপে ভালোবাসার দহন
সময় যদি পালটে আসে পচবে রে তোর অহং।
মিছা লোভের স্বপ্নেরে তোর আকর করা আশা
শরীর সহ মনের দহন মৃত স্তূপের বাসা।
বদল করা সময় গুলো অন্য সুখের তরে
অনুভূতি দের হাতে রেখে কিনবে দেদার দরে।
                   ©সুতপা

মাটির মা'র কথা

    মাটির মা সশব্দে তৈরি হতে চলেছি ভালো আছিস তোরা? কতটা মাটি দিলে আরও সুন্দর হবো? নাকের কাছ টা বেঁকে গেছে ঠিক করে দে ওটা আমার চোখ গু...